Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

গড় রেটিং: 3.0/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৭-২০২০

নির্মাণের ২০ দিনের মাথায় পিচ উঠে গেছে ১৯ কোটি টাকার রাস্তার

নির্মাণের ২০ দিনের মাথায় পিচ উঠে গেছে ১৯ কোটি টাকার রাস্তার

ঝিনাইদহ, ০৭ অক্টোবর- নির্মাণের ২০ দিনের মাথায় আবারও পিচ উঠে গেছে ১৯ কোটি টাকার রাস্তা আর একটি অংশের। বুধবার সকালে কালীগঞ্জ-ডাকবাংলা সড়কের সিংদহ আলাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের অংশে পিচ উঠে গেছে। স্থানীয়রা রাস্তায় হাত দিয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ২২ কিলোমিটার রাস্তার মাত্র তিন কিলোমিটার শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে তা উঠে গেছে। অনেক স্থানে ফেটে গেছে।

বিভিন্ন স্থানে এমনিতে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করায় এমনটি হয়েছে বলছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও স্থানীয় জনগণের। গত এক সপ্তাহ আগে এই রাস্তার শ্রীরামপুর অংশে প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং উঠে যায়। যা নিয়ে সংবাদ ও ছবি ভাইরাল হলে ঠিকাদার সেই রাস্তার সম্পূর্ণ পিচ কার্পেটিং তুলে ফেলে। আবারও অন্য একটি অংশে পিচ একই ভাবে উঠে যাচ্ছে।

যদিও ঠিকাদারের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে অল্প কিছু অংশে রাস্তার কাজ করার কারণে এমন হয়েছে। তবে, রাস্তা তৈরির তিন বছরের মধ্যে কোন ক্ষতি হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা ঠিক করে দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন ঠিকাদার।

আরও পড়ুন: ইবি ছাত্রী তিন্নির মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ডাকবাংলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা মজবুতিসহ ওয়ারিং এর কাজ চলছে তিন বছর ধরে। এর ২০ দিন আগে কালীগঞ্জ নীমতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে পাকাকরণের জন্য কার্পেটিং বা পিচিকরণের কাজ শুরু করে। ৪ থেকে ৫ দিনে তিন কিলোমিটর কাজ সম্পন্ন করে। এরপর বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু এরই মধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গেছে। কোথাও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ উঠে যাবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীরা। একই ভাগে গতকাল থেকে একই রাস্তার আলাইপুর,সিংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

টেন্ডারে রাস্তার কাজ পান খুলনার মুজাহার ইন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। কিন্তু হাত বদল হয়ে রাস্তার কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম মিয়া। টেন্ডার শেষে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ শুরু হয় তিন বছর আগে। রাস্তা খোড়া এবং ইট বালুর কাজ শেষ হয়েছে ছয় মাস আগেই। এরপর সম্প্রতি শুরু করেছে কার্পেটিং এর কাজ। এদিকে কাজের ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুম মিয়া রাস্তার কাজ নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

সড়কটির কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমটি হয়েছে। তবে সিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ সম্পন্নের তিন বছরের মধ্যে কোন সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুন:মেরামত করবেন। এরই মধ্যে রাস্তার সমস্যা হয়েছে তিনি স্বীকার করেন।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এই ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা,সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি তিনি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আরো জানান, ঝিনাইদহে বেশ কয়েকটি রাস্তা নির্মাণের পর এমন সমস্যা হয়েছে । এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং মন্ত্রণালয় থেকেও তদন্ত করবে।

সূত্র : ইত্তেফাক
এন এইচ, ০৭ অক্টোবর

ঝিনাইদহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে